জেলা গোয়েন্দা শাখা কুমিল্লার এসআই শাহ কামাল আকন্দ এর পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মাননা পিপিম পদক প্রাপ্তি

অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ ও কর্তব্যনিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার, হত্যা-অপহরণসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য এ বছর ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সাহসিকতা) লাভ করার গৌরব অর্জন করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এস.আই শাহ কামাল আকন্দ।


মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি এ পদক গ্রহন করেন। শাহ কামাল আকন্দের পিপিএম পদক লাভ কুমিল্লা ডিবি পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।’ ওই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কুমিল্লা পুলিশ সুপারসহ কুমিল্লার সাবেক পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।


শাহ কামাল আকন্দ জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) যোগদানের পর থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার ও ডিবির ওসির দিকনির্দেশনায় অসীম সাহসিকতা ও কর্তব্য নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অস্ত্র উদ্ধার, চিহিৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, মাদক ও ব্যাংকের লুণ্ঠিত টাকা, বিভিন্ন যানবাহন, লুণ্ঠিত রফতানী পণ্য উদ্ধার, হত্যা ও অপহরণ মামলার রহস্য উন্মোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে ডিবির বিদায়ী এস.আই ফিরোজ হোসনের উপর হামলা করে অস্ত্র লুন্ঠনকারী কুমিল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাব্বী-জিরা বাহিনীর সদস্যদের এস.আই শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ প্রতিহত করে তাদের নিকট থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছিল।


এছাড়াও গত বছরের ১৯ অক্টোবর শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিশ্চিন্তপুর নামক স্থানে ১০/১১ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২ রাউন্ড গুলিসহ একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার প্রাইম ব্যাংক থেকে উত্তোলিত গ্রাহকের ১০ লাখ টাকালুটকারী এবং ১৩ অক্টোবর সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন বিশ্বরোড এলাকা থেকে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ আবু তাহের (২৮) ও মোঃ শহিদুল ইসলাম (২২) কে গ্রেফতার করা হয়।


গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শেষে মাইক্রোযোগে ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকা থেকে ফেরার পথে গভীর রাতে পালপাড়া নামক স্থানের পালপাাড়া ব্রীজের উত্তর পাশে বিদ্যুৎ সাব-ষ্টেশন এর সামনে রাস্তায় ১২/১৩জনের একটি ডাকাত দল মাইক্রোবাস থামিয়ে সামনের গ্লাস ভেঙ্গে ফেলা মাত্র ডিবি পুলিশের লোক চিনতে পেরে এলোপাতারি গূলি বর্ষণ করতে থাকে। এ সময় ডিবি পুলিশের সাথে গুলি বিনিময়ে গুরুতর আহত সন্ত্রাসী জিরা সুমন (২৮) কে কুমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ২ রাউন্ড গুলিসহ ১টি রিভলভার,৩টি দেশীয় তৈরী এলজি উদ্ধার করা হয়। এদিকে বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ও অবরোধ চলাকালে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে টহলকালে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন কৃষ্ণপুর নামক স্থানে পৌছামাত্র ১৪/১৫ জনের একটি নাশকতাকারী দল ডিবি পুলিশের গাড়ী লক্ষ্য করে ১টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং গূলি বর্ষণ করে। এ সময়ে ডিউটিতে থাকা এসআই মোঃ শাহ কামাল আকন্দসহ ৫জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। ঘটনাস্থল হতে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়াবাজারস্থ মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থলেই ৮জনকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। গত বছরের ২২ আগষ্ট এসআই শাহ কামাল আকন্দসহ ডিবি পুলিশের একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান শেষ করে শহরের ফেরার পথে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পেরুল সাকিনস্থ পদুয়ার বাজার হতে নোয়াখালী সড়কের এম আর ব্রীক ফিল্ডের সামনে রাস্তায় আসামাত্র ১৪/১৫ জনের ডাকাত দল ০১ট্ যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ডাকাতি করার চেষ্টাকালে ডাকাত ডাকাত চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিবির টিম ডাকাতদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে ডাকাত দল গূলি বর্ষণ করে। এ সময়ে ডাকাতদের গূলিতে এসআই মোঃ শাহ কামাল আকন্দসহ ৫জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের সাথে ডাকাত দলের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আহত ডাকাত সর্দার কাদেরসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাকাত কাদের মারা যায়। এ সময় ২ রাউন্ড গূলি ভর্তি ১টি ওয়ান শুটার গান, ৩টি এলজি ও ৩ রাউন্ড কার্তুজ,২টি ছোরা, ডাকাতদের ব্যবহৃত ১টি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোঃ ফিরোজ হোসেনের পিস্তল ছিনতাইকারীর অন্যতম সহযোগী মোঃ আলাউদ্দিন কে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি ও ১ রাউন্ড গুলিসহ দেবিদ্বার থেকে গ্রেফতার করেন। গত বছরের ০৪ নভেম্বর ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ বালুতুপা এলাকা থেকে ০১টি এলজি ও ০১ রাউন্ড গুলিসহ সাকিন আহম্মেদ @ পলিন (২৫) করেন। সে কোতয়ালী মডেল থানার রাজগঞ্জ এলাকায় প্রাইম ব্যাংকের ১০ লাখ টাকা ও সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন বিশ্বরোড এলাকায় দেড় লাখ টাকা ছিনতাই মামলার অন্যতম আসামী ছিল।

গত বছরের ২০ এপ্রিল এসআই শাহ কামাল আকন্দ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী মডেল থানাধীন লাকসাম সড়কের সালাউদ্দিন মোড় সংলগ্ন নির্মানাধীন বিল্ডিং এর পশ্চিম পাশে রাস্তায় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ২টি রিভলবার, ১টি সুইচগিয়ার, ২টি ছোরা, ১টি মটর সাইকেলসহ নগরীর ২য় মুরাদপুর এলাকার সন্ত্রাসী মোঃ লোকমান (২৫), মোঃ এমরান হোসেন (২৪) ও মোঃ রিপন (২৪) গ্রেফতার করেন। এছাড়াও এস.আই শাহ কামাল আকন্দ কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সংগঠিত হত্যা , অপহরণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উন্মোচন করেছেন।


এর আগে ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর মামলা ছাড়াই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নগরীর ডুলি পাড়া থেকে গরু ব্যবসায়ী তোতা মিয়ার হাড়-কংকাল উদ্ধারসহ ঘাতকদের গ্রেফতার এবং একই বছরের ১৩ মার্চ দেবিদ্বার থানায় দায়িত্ব পালনকালে উপজেলার ছেচড়াপুকুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ শাহিনার মৃতদেহ প্রায় ৮০ ফুট মাটির নীচে নলকুপের পাইপ থেকে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে দেশ ব্যাপী আলোচিত হন। জেলার দেবিদ্বার ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশে দায়িত্বপালনকালে কৃতিত্বপূর্ন এসব অবদানের কারনে ইতিমধ্যে শাহ কামাল আকন্দ জেলা ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে একাধিকবার শ্রেষ্ঠ এস.আই সন্মানা লাভ করেছেন।


উল্লেখ্য এ বছর পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ২০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সাহসিকতা )’, ২৩ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ ৪০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ এ চার ধরনের পদক প্রদান করা হয়।

Read 942 times