কুমিল্লার পুলিশ সুপার বিপিএম ও ডিবির এসআই শহীদুল ইসলাম পিপিএম পাচ্ছেন।

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের পদকের জন্য এ বছর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই শহীদুল ইসলাম প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (সেবা) পেতে যাচ্ছেন। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষ্যে আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের হাতে এই মেডেল তুলে দেবেন। আগামী ২৩ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। শেষ হবে ২৭ জানুয়ারি। পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদক প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার ও পদক তুলে দেবেন বলে পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে। এবার বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) পদক পাচ্ছেন ২৬ জন, বিপিএম সেবা ২৪ জন, প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পেতে পাচ্ছেন ৪১ জন, পিপিএম সেবা পাচ্ছেন ৪১ জন। মোট পদক পাচ্ছেন ১৩২ জন।

জানা যায়, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোঃ শাহ আবিদ হোসেন বিগত ২০১৫ সালের ৩১ মে কুমিল্লায় যোগদানের পর থেকে জেলার অপরাধ দমনে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁরই দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশ, ডিবি ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সমূহ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সারা দেশের মধ্যে একমাত্র কুমিল্লাতে প্রথম তাঁর উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চাকুরি প্রার্থীর ডাটা এন্ট্রি, তাৎক্ষনিক ল্যাপটপ থেকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট, আসন বিন্যাসসহ ফলাফল তৈরী অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে নিয়োগে কোন ধরণের ভূয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াতির সুযোগ একেবারেই বিলীন হয়ে যায়। মোবাইল ফোনে এসএমএস এর মাধ্যমে প্রার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচী ও ফলাফল প্রকাশ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। শেষে চাকুরিতে উত্তীর্ণ প্রর্থীদের তিনি নিজে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। চাকুরী জীবনে প্রবেশের প্রাক্কালেই নিয়োগকৃতদের মধ্যে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরী করতে সক্ষম হন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের a2i প্রকল্পের সহযোগিতায় পাইলট জেলা হিসেবে কুমিল্লায় অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে চালু করায় গত ১৫ জানুয়ারি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারাদেশে পুলিশের এই ডিজিটাল সেবা উদ্বোধন করেন। সম্প্রতি সমাপ্ত ডিজিটাল মেলায় জেলা পুলিশ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। তার দক্ষ নেতৃত্বে সারাদেশে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রথম স্হান দখল করে। পুলিশ সুপার কুমিল্লার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নাগরিকদের পুলিশি সেবা প্রদানে নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

অপর দিকে মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার শুশুন্ডা গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম ও মালেকা বেগমের ছেলে সহিদুল ইসলাম ১৯৯৬ সালের ১ জুন বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। কুমিল্লা ডিবিতে যোগদানের পর থেকে শহীদুল ইসলাম অনেক হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন, অস্ত্র উদ্ধার, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম ও এসআই শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ডিবির এই টিমটি জেলার অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। আর আগে এসআই শাহ কামাল আকন্দ গত বছরের পুলিশ সপ্তাহে পিপিএম (সাহসিকতা) পদক লাভ করেছিলেন।

Read 1537 times