কুমিল্লা পুলিশ সুপারের সততাপূর্ণ পদক্ষেপেঃ- এবারও নিয়োগ পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক দিনমজুর পরিবারের সন্তানরা

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম এর সততা ও দক্ষতাপূর্ণ পদক্ষেপে পুলিশ কনস্টেবল পদে এবার মুক্তিযোদ্ধা  কৃষক দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারেরসহ ৩৫৩ জন মেধাবী নিয়োগ পেয়েছে। সারাদেশে ২০১৫ সালে প্রথম তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রার্থীর ডাটা এন্ট্রি, তাৎক্ষণিক ল্যাপটপ থেকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট, আসন বিন্যাসসহ ফলাফল তৈরী অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। এতে বিগত সময়ের মতো কোন ধরণের ভুয়া পরীক্ষার্থী বা জালিয়াতির সুযোগ ছিলো না এবং প্রতারক ও দালালচক্রের অপতৎপরতা ছিল শূন্যের কোঠায়। প্রায় প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় দালালদের উৎপাত, নিয়োগ বাণিজ্য অর্থাৎ রেট (দর) নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা এবং এ নিয়ে পত্রিকায় শিরোনাম হলেও বর্তমান পুলিশ সুপার এসব কিছুর উর্ধ্বে ওঠে ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরসহ তিনটি নিয়োগে স্বচ্ছ  প্রক্রিয়ায় মেধাবীদের মূল্যায়নে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।


জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ৩১ মে কুমিল্লা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর ইতোমধ্যে তিনটি ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন মো. শাহ আবিদ হোসেন। এ বছর নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতেই তিনি মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রতারক চক্রের অপতৎপরতা রোধে জেলাব্যাপী সতর্কতামূলক লিফলেট ও পোস্টার বিতরণসহ অফিসার ও ফোর্সদের  জনসম্পৃক্ত করে গণসচেতনতা তৈরী করেছিলেন। সারাদেশের মধ্যে কুমিল্লায় এই প্রথম তাঁর উদ্ভাবিত সফ্টওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রার্থীর ডাটা এন্ট্রি, তাৎক্ষণিক ল্যাপটপ থেকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট, আসন বিন্যাসসহ ফলাফল তৈরী অর্থাৎ প্রতিটি স্তরেই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় এসএমএস’র মাধ্যমে প্রার্থীদের পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফল প্রকাশ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তিনি ফুল দিয়ে বরণ করে চাকুরী জীবনের প্রবেশের প্রাক্কালেই নিয়োগকৃতদের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোবৃত্তি তৈরী করেন। সূত্র জানায়, তার সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাপূর্ণ নিরপেক্ষতার কারণে কুমিল্লা জেলায় উত্তীর্ণ সুপারিশকৃত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগের ফলাফল বেশ প্রশংসিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট উত্তীর্ণ ৩৮৩ জনের মধ্যে দিনমজুর ও শ্রমিক সাধারন কোঠায় পুরুষ ১৮৭ জন ও মহিলা কোঠায় ৩৬ জন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কোঠায় পুরুষ ৯০ জন ও মহিলা কোঠায় ৪ জন, পুলিশ বাহিনীর সন্তান বা পোষ্য কোঠায় পুরুষ ৩২ জন ও মহিলা কোঠায় ৩ জন এবং আনসার কোঠায় ১ জন। অপেক্ষমান আছে সাধারন পুরুষ কোঠায় ১৫জন, পুলিশ বাহিনীর সন্তান রকাঠায় ৫ জন, মহিলা কোঠায় ১০ জন। এসএসসির ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ২৩ জন,  ‘এ’ গ্রেডে ১৬০ এ মাইনাস গ্রেডে ৯৫, বি গ্রেডে-৬৫ এবং সি গ্রেডে ৪০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫৩ জনের মধ্যে ২২২ জন কৃষক পরিবারের সন্তান এবং রিকশা  চালকসহ দিনমজুর ও শ্রমিকের সন্তান রয়েছে ১০  জন, এতিম ৬জন।


নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিমত ব্যক্ত করে কুমিল্লা সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদের সাধারন সম্পাদক দিলীপ মজুমদার ও দৈনিক আজকের কুমিল্লার সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, বিভিন্ন কারণে বিগত সময়ে দিনমজুর ও কৃষক পরিবারের মেধাবী সন্তানরা যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও তাদের জন্য এ ধরণের নিয়োগ ছিল সোনার হরিণের মতো। এবার রাজনৈতিকসহ সকল ধরণের তদবীর মোকাবেলা করে সুদক্ষ, পেশাদার, গণমুখী পুলিশ বাহিনী গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে মেধাবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সুপার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শ্রেণী বৈষম্য বা তদবীর নয় মেধার মূল্যায়নে এ ধরণের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দক্ষ পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশে মডেল হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কৃষক পরিবারের আনন্দাশ্রু এর আগে কখনো দেখিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়া নয় আইন-শৃংখলার উন্নয়ন, দুর্ভেদ্য ঘটনার রহস্য উদঘাটনে দুর্ধর্ষ অপরাধী-সন্ত্রাসী গ্রেফতারসহ সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা যে কোন সময়ের চেয়ে সকল মহলে বেশ প্রশংসিত।’
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘ইন্সপেক্টর জেনারেল অব বাংলাদেশ পুলিশ (আইজিপি) এ.কে.এম শহীদুল হক বিপিএম-পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় গণমুখী পুলিশ বাহিনী গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে দায়িত্ববোধের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরেছি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সকলে নিয়োগ পেয়েছে। গত নিয়োগে প্রাথমিকভাবে সফটওয়ার ব্যবহার করলেও এবার ডিজিটাল পদ্বতিটি প্রাতিষ্ঠানিক রুপ নিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল ক্ষেত্রে সম্পন্ন সচ্ছভাবে করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলার জন্য পৃথক পৃথক বুথের মাধ্যমে ল্যাপটপ কম্পিউটারের ডাটাব্যাজে সংরক্ষন করা হয়েছে যাতে কেউ প্রক্য্রি দিতে না পারে সেদিক লক্ষ্য করে ৪টি ছবি নিয়ে প্রবেশপত্র, টেবুলেশনশীটে আলাদাভাবে সংযোক্ত করা হয়। তাছাড়া কুমিল্লার জনপ্রতিনিধি , সাংবাদিকসহ জনসাধারনের আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা আমাদেরকে এ কাজে সফল করেছে। এ ধরণের নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে পুলিশ বাহিনী সমৃদ্ধ ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হবে বলে আশা করি।

 

সূত্র- নজরুল ইসলাম দুলাল, সাপ্তাহিক সীমান্ত সংবাদ। প্রকাশকাল-২৩ এপ্রিল ২০১৭ইং

Read 2793 times